দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুতের ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির একটি চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এ চুক্তিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়বে এবং দেশটিতে জ্বালানির দাম কমবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের তেল সরবরাহ বাড়াবে এবং মার্কিন নাগরিকদের জন্য জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজও চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এ চুক্তির বড় প্রভাব পড়বে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা—দুই দেশের জনগণের জন্য বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে রদ্রিগেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের আওতায় আসবে। এসব ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রমাণিত তেল মজুতের পরিমাণ ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি। চুক্তির আওতায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এবং ভেনেজুয়েলা সরকারের জন্য ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায়ের কথাও বলা হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিবিসির অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় একটি অভিজ্ঞ বেসরকারি পরিচালনাকারীর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রাখবে। ওই উদ্যোগকে তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য ১০০ বছরের অনুমতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চুক্তির আনুষ্ঠানিক নথি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ভেনেজুয়েলার সংবিধান ও আইনের সঙ্গে চুক্তিটি সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না এবং দেশটিতে এটি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিদেশি একটি দেশের সার্বভৌম প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হন। এরপর ট্রাম্প বলেছিলেন, একটি নিরাপদ ও সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রশাসন ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে এবং দেশটির তেল বিক্রির ওপর যুক্তরাষ্ট্র অনির্দিষ্টকাল নিয়ন্ত্রণ রাখবে।
ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত তেল মজুত বিশ্বের সর্বোচ্চ, যার পরিমাণ আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। তবে ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
ভেনেজুয়েলার তেলশিল্প পুনরুদ্ধারে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করে আসছেন, অতীতে ভেনেজুয়েলা একতরফাভাবে মার্কিন তেল, সম্পদ ও তেল স্থাপনা দখল ও বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল ক্ষতি করেছে।
এমএস/